কাউকে ভয় পাই না’—নাটকের কাস্টিং নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন পারসা?

ব্যাচেলর পয়েন্টের ইভা হয়ে বদলে গেছে জীবন, নাটকের কাস্টিং নিয়ে এবার মুখ খুললেন পারসা ইভানা
অভিনেত্রী পারসা ইভানার অভিনয়জীবনে বড় পরিবর্তন এনেছে ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’। ধারাবাহিকটির ইভা চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের কাছে ব্যাপক পরিচিতি পান তিনি। অল্প সময়ের মধ্যেই চরিত্রটি হয়ে ওঠে তাঁর অভিনয়জীবনের অন্যতম বড় পরিচয়। তবে এখন শুধু জনপ্রিয়তা ধরে রাখাই নয়, ভালো গল্প ও চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে নিজেকে নতুনভাবে তুলে ধরতে চান এই অভিনেত্রী।
অন্যদিকে, দেশের নাট্যাঙ্গনের কাজের পরিবেশ, নির্মাণের মান এবং শিল্পী নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়েও নিজের মতামত জানিয়েছেন পারসা। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নাটকের কাস্টিং নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
একদিকে সিনেমায় অভিনয়ের স্বপ্ন দেখছেন, অন্যদিকে নাটকের শিল্পী নির্বাচনে শেষ মুহূর্তে পরিবর্তনসহ নানা অসংগতি নিয়ে সরব হয়েছেন এই অভিনেত্রী।
‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এর একটি মৌসুমে অভিনয় করেই দর্শকের মধ্যে আলাদা পরিচিতি তৈরি করেন পারসা ইভানা। ধারাবাহিকটির পর তাঁর জনপ্রিয়তা যে অনেক বেড়েছে, তা অকপটেই স্বীকার করেছেন অভিনেত্রী।
পারসার ভাষায়, ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ তাঁর জীবনে বড় পরিবর্তন এনেছে। এখন বিভিন্ন অনুষ্ঠান কিংবা জনসমাগমে গেলে তাঁকে একনজর দেখতে অনেক দর্শক ভিড় করেন।
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে পারসা বলেন, ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট করার পর লাইফ অনেকটাই বদলে গেছে। এখন কোনো ইভেন্টে গেলে হাজার হাজার মানুষ আমাকে দেখতে আসেন। যে জিনিসটা আগে আমি পাইনি, এই লেভেলে পাইনি—ওই জায়গা থেকে অবশ্যই আমার জীবনে অনেক পরিবর্তন এসেছে। আর্টিস্ট হিসেবে একটা অন্য রকম স্বীকৃতি আমি পেয়েছি।’
ধারাবাহিকটির মাত্র একটি মৌসুমে অভিনয় করলেও এখনো দর্শকের কাছে ইভা চরিত্রটি বেশ জনপ্রিয়। বিভিন্ন জায়গায় ভক্তরা তাঁকে আবারও ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এ দেখতে চান বলে জানান। দর্শকের এই ভালোবাসাকে নিজের অভিনয়জীবনের অন্যতম বড় অর্জন মনে করেন তিনি।
টেলিভিশন নাটকে পরিচিতি পেলেও বড় পর্দায় অভিনয়ের স্বপ্ন দেখেন পারসা ইভানা। তাঁর মতে, সিনেমায় অভিনয় করা প্রত্যেক অভিনয়শিল্পীরই স্বপ্নের একটি অংশ। বড় পর্দায় নিজের অভিনয় দেখা, প্রিমিয়ারে দর্শকের উপস্থিতি এবং সিনেমা হলে দর্শকদের টিকিট কেটে ছবি দেখার অভিজ্ঞতা পেতে চান তিনিও।
তবে সিনেমায় অভিনয়ের ইচ্ছা থাকলেও যেকোনো প্রস্তাবে রাজি হতে চান না এই অভিনেত্রী। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি সিনেমার প্রস্তাব পেলেও গল্প ও চিত্রনাট্য পছন্দ না হওয়ায় সেগুলোতে যুক্ত হননি।
এ বিষয়ে পারসা বলেন, ‘সিনেমা করার ইচ্ছা কার না থাকে? নিজেকে বড় পর্দায় দেখা, সবাই মিলে প্রিমিয়ার—প্রত্যেক আর্টিস্টেরই একটা ড্রিম থাকে। হাজার হাজার মানুষ হলে গিয়ে টিকিট কেটে আমাকে দেখবেন, এটা প্রত্যেক শিল্পীরই স্বপ্ন।’
কেমন সিনেমায় কাজ করতে চান, সেটিও পরিষ্কার করেছেন তিনি। পারসার কাছে গল্প, চরিত্র, চিত্রনাট্য এবং পরিচালকের পরিকল্পনা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যে চরিত্রে নিজের অভিনয়দক্ষতা প্রকাশের সুযোগ থাকবে, এমন কাজই বেছে নিতে চান।
তাঁর কথায়, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে, ওই স্ক্রিপ্টগুলো থেকে আমার পাওয়ার কিছু নেই। যেদিন আমার কাছে মনে হবে যে এই ক্যারেক্টারে আমি অনেক কিছু দিতে পারব, সেদিনই অভিনয় করতে চাই। ওরকম স্ক্রিপ্ট, ওরকম ডিরেক্টর, ওরকম রাইটারের সিনেমাতেই আমি অভিনয় করতে চাই।’
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়ে দেশের নাটকের নির্মাণ ও শিল্পী নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন পারসা ইভানা। তাঁর মতে, বাংলাদেশের নাটকের গল্পে যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকলেও নির্মাণ ও কাস্টিংয়ের ক্ষেত্রে আরও পেশাদারত্ব ও সচেতনতা প্রয়োজন।

এই পোস্টের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অভিনেত্রী জানান, সম্প্রতি পাশের দেশের একটি পডকাস্টে জ্যেষ্ঠ অভিনয়শিল্পী ও লেখকদের নাটকের ভালো-মন্দ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করতে দেখেছেন তিনি। বাংলাদেশের নাটক নিয়েও এমন গঠনমূলক আলোচনা হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন।
পারসা বলেন, ‘আমাদের দেশে যদি এ রকম কোনো পডকাস্টে কোনো নাটক নিয়ে বসা হয়, তাহলে অসংখ্য ভুল পাওয়া যাবে। অনেক বিষয় নিয়ে কথা বলা যাবে, যেগুলো সাধারণত আমাদের দেশে কেউ বলেন না। ওই জায়গা থেকেই আমি পোস্টটি করেছি।’
তবে তাঁর এই মন্তব্যের উদ্দেশ্য কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা নয়। বরং নাটকের নির্মাণপ্রক্রিয়া ও শিল্পী নির্বাচনে পেশাদারত্ব বাড়ানোর আহ্বান জানাতেই পোস্টটি করেছেন বলে জানান তিনি।
নাটকের কাস্টিং নিয়ে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাও জানিয়েছেন পারসা। তাঁর দাবি, কখনো কখনো নির্দিষ্ট কোনো অভিনয়শিল্পীকে মাথায় রেখেই চরিত্র তৈরি করা হয়। এমনকি সংশ্লিষ্ট শিল্পীকে জানানো হয়, চরিত্রটি তাঁর জন্যই লেখা হয়েছে। কিন্তু শুটিং শুরুর ঠিক আগে প্রযোজক কিংবা অন্য কারও আপত্তিতে পরিবর্তন হয়ে যায় কাস্টিং।
এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন নিজেও।
পারসার ভাষায়, ‘আমার সঙ্গেও এ রকম হয়েছে। বলা হয়েছে, আমাকেই লাগবে, চরিত্রটা আমার জন্যই লেখা। শেষ মুহূর্তে হয়তো প্রযোজক বা অন্য কেউ আমাকে নিতে চান না। কিংবা অন্য কোনো কারণে কাস্টিং পরিবর্তন হয়ে যায়। যেটা খুবই বিরক্তিকর।’
তিনি মনে করেন, এ ধরনের অনিয়ম ও অনিশ্চয়তা বন্ধ করা গেলে দেশের নাটকের মান আরও উন্নত হবে। পাশাপাশি নির্মাতা, প্রযোজক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাস্টিংয়ের ক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।
নিজের পোস্ট নিয়ে কেউ ব্যক্তিগতভাবে কিছু মনে করলে সেটি নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নন পারসা। তাঁর দাবি, তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি কিংবা কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেননি। নাটকের সামগ্রিক পরিবেশ ও পেশাগত সমস্যার দিকেই দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছেন।
নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি তো আসলে কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করিনি। কারও নামও নিইনি। তারপরও যদি কেউ পারসোনালি নিয়ে নেন, তার মানে তাদের সমস্যা আছে।’
নিজের কাজ ও পরিশ্রমের ওপর আস্থা রেখে তিনি আরও বলেন, ‘আমার কাজ, আমার পরিশ্রম কোনো না কোনোভাবে আমার কাছে ফেরত আসবেই, যদি আমি এটা ডিজার্ভ করি। কে আমাকে নিয়ে কী মনে করলেন, এই পোস্টের কারণে কে আমাকে কাজে নিলেন বা নিলেন না, সেটা নিয়ে আমি ভাবছি না।’
সব মিলিয়ে, ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এর ইভা চরিত্র দিয়ে দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া পারসা ইভানা এখন নিজের অভিনয়জীবনের পরবর্তী ধাপ নিয়ে ভাবছেন। একদিকে বড় পর্দায় মানসম্মত কাজের অপেক্ষা, অন্যদিকে নাট্যাঙ্গনের পেশাগত অসংগতি নিয়ে তাঁর খোলামেলা বক্তব্য নতুন করে আলোচনায় এনেছে এই অভিনেত্রীকে।



